অনিচ্ছার ডিগ্রি ও প্রতিভার অপঘাত

Share:
অনিচ্ছার ডিগ্রি—পরিবারের চাপে চাপা পড়া একটি প্রজন্মের প্রতিভার অপঘাত

পরিবারের চাপে চাপা পড়ে থাকা একটি প্রজন্মের গল্প, এবং আমাদের সম্মিলিত অপরাধবোধের সামনে কিছু কঠিন প্রশ্ন।

ঢাকার একটি অভিজাত হাসপাতালের তেইশ তলায়, রাত তিনটার সময়, একজন তরুণ চিকিৎসক তাঁর ডিউটি রুমে বসে আছেন। সামনে খোলা একটি প্যাথলজি রিপোর্ট, কিন্তু তাঁর হাত চলছে অন্য একটি খাতায়। সেখানে লেখা হচ্ছে একটি কবিতা—মায়ের কথা, গ্রামের পুকুরপাড়ের কথা, হারিয়ে যাওয়া কিশোরবেলার কথা। সকাল হলেই তিনি আবার স্টেথোস্কোপ গলায় ঝুলিয়ে রাউন্ড দেবেন, কিন্তু এই মুহূর্তে—এই গভীর রাতে, যখন কেউ দেখছে না—তিনি কেবল একজন কবি। যিনি কোনোদিন কবি হওয়ার অনুমতি পাননি।

এই দৃশ্যটি কাল্পনিক নয়। এই দৃশ্যটি বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ গৃহে, লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ের জীবনে প্রতিদিন রচিত হচ্ছে—কেবল চরিত্রগুলোর নাম, পেশা আর শহর বদলে যায়।

জন্মেই যাদের কপালে লেখা হয়ে যায় ভবিষ্যৎ

আমাদের দেশে একটা ভয়ানক রীতি চালু আছে—সন্তান জন্মাবার আগেই তার ভবিষ্যৎ স্থির হয়ে যায়। ছেলে হলে “ডাক্তার বানাব”, মেয়ে হলে “ইঞ্জিনিয়ার বানাব”। কেউ ব্যাংকার, কেউ আইনজীবী, কেউ BCS ক্যাডার। হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে শিশু কান্নায় ভেঙে পড়ার আগেই তার দাদু-দাদি, নানা-নানি, চাচা-চাচি, ফুফা-ফুফু—সবাই মিলে তার পেশা ঠিক করে ফেলেন। শিশুটির ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রশ্নই আসে না, কারণ সে তখন কেবল একটি গোলাপি মাংসপিণ্ড।

এরপর শুরু হয় দেড় যুগের এক দীর্ঘ যাত্রা। প্লে-গ্রুপ থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পিএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, তারপর অ্যাডমিশন টেস্ট—মেডিকেল, বুয়েট, ঢাবি, আইবিএ। উদ্ভাস, রেটিনা, ইউসিসি—কোচিং সেন্টারের নামগুলো বাবার মুখে বিড়বিড় করে উচ্চারিত হয় ফজরের নামাজের পর। সেই দেড় যুগ ধরে ছেলেটি বা মেয়েটি কেবল একটি জিনিসই শেখে—“যা বলা হয়েছে, তাই করো।”

তারপর একদিন—হয়তো এইচএসসির রেজাল্টের দিন, হয়তো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্টের দিন, হয়তো MBBS-এর তৃতীয় বর্ষে অ্যানাটমির ভাইভার ঠিক আগে—এই সন্তানটি প্রথমবারের মতো নিজের ভেতরে উঁকি দেয়। এবং প্রথমবারের মতো নিজেকে চিনতে পারে।

কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

“পেছনে ফেরার আর কোনো পথ নেই”

আমাদের সমাজে একবার যে পথে পা বাড়িয়েছ, সেখান থেকে ফিরে আসার কোনো সম্মানজনক উপায় নেই। MBBS-এর তৃতীয় বর্ষে এসে যদি কোনো ছেলে বলে, “আমি ডাক্তার হতে চাই না, আমি সাহিত্য পড়তে চাই”—তাহলে কী হয়?

  • পরিবার ভেঙে পড়ে। বাবা স্ট্রোক করতে পারেন। মা অন্তত এক সপ্তাহ ভাত খাবেন না।
  • আত্মীয়স্বজন ফোন করতে শুরু করবেন—“ছেলেটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে, কোনো হুজুরের কাছে নিয়ে যাও।”
  • প্রতিবেশীরা ফিসফিস করবেন—“এত টাকা খরচ করল, এখন বলে সাহিত্যিক হবে! সব নষ্ট!”
  • বিয়ের বাজারে ছেলেটির দাম পড়ে যাবে। কন্যাপক্ষ আর “MBBS ছেলে” পাচ্ছে না, পাচ্ছে একটা “drop-out”।

এই সামাজিক চাপের সামনে দাঁড়াবার মতো মানসিক শক্তি ক'জনের আছে? “পাছে লোকে কিছু বলে”—এই একটি ভয়ের কাছে আমাদের জাতির অর্ধেক প্রতিভা মাথা নত করে আত্মসমর্পণ করে আসছে যুগ যুগ ধরে।

ছেলেটি তখন একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়—সে নিজেকে দাফন করে দেবে, কিন্তু পরিবারের সম্মান রক্ষা করবে। সে ডাক্তার হয়, ইঞ্জিনিয়ার হয়, ব্যাংকার হয়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় সফল মানুষ। ভেতরে—একটি কবিতার খাতা, একটি অসম্পূর্ণ উপন্যাস, একটি গিটার যেটি কোনোদিন বাজানো হয়নি, একটি ক্যামেরা যা ধুলো জমেছে।

এটাই আমাদের জাতির সম্মিলিত বিষাদ। আমরা একটি জাতি, যারা নিজেদের সবচেয়ে প্রিয় স্বপ্নকে নিজের হাতেই খুন করে এসেছি।

হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল ও যাঁরা পেছনে ফিরতে পেরেছিলেন

মাঝে মাঝে কেউ কেউ এই খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের নাম আমরা মনে রাখি।

হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন রসায়নের পিএইচডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। কিন্তু তাঁর কলম মানল না বিজ্ঞানের শৃঙ্খলা। তিনি লিখে গেলেন—‘নন্দিত নরকে’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘মিসির আলি’, ‘হিমু’—একটা গোটা প্রজন্মের সাহিত্যিক বোধই তৈরি হয়েছে তাঁর হাতে। যদি তিনি কেবল ‘ড. হুমায়ূন আহমেদ, প্রফেসর, রসায়ন বিভাগ’ হয়ে থাকতেন, তাহলে বাংলা সাহিত্যের কী ক্ষতি হত—সেটা মেপে দেখার সাধ্য আমাদের নেই।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। কিন্তু তাঁর কিশোর উপন্যাস, তাঁর বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি—তিনি দুটোকে এক করতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশের কয়েক প্রজন্মের কিশোর-কিশোরী বিজ্ঞান ভালোবাসতে শিখেছে তাঁর বই পড়ে।

আনিসুল হক, যিনি একসময় BUET-এর ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠ্যক্রমের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, পরে হয়ে উঠলেন আমাদের সময়ের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

আহসান হাবীব—ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার কথা ছিল, কিন্তু কলম-তুলি হাতে তুলে নিলেন। বাংলাদেশের রসপত্রিকা ‘উন্মাদ’-এর জন্ম এভাবেই।

কিন্তু এঁদের প্রত্যেকের পেছনে শত শত নাম-পরিচয়হীন মানুষ আছেন, যাঁরা পেছনে ফিরতে পারেননি। যাঁরা চেম্বারে রোগী দেখতে দেখতে নিজের ভেতরের কবি, ঔপন্যাসিক, চিত্রকর, সংগীতশিল্পী, ইতিহাসবিদ, দার্শনিক—সবাইকে চাপা দিয়ে রেখেছেন। তাঁদের ভেতরে যে অসম্ভব সম্ভাবনা ছিল, তা কোনোদিন প্রকাশ পেল না।

এটাই প্রতিভার অপঘাত—আত্মহত্যা নয়, কিন্তু আত্মার মৃত্যু।

“তমুকের ছেলে পেরেছে, তুমি কেন পারবে না?”

বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে এই একটি বাক্যে যত কিশোর-কিশোরীর মন ভেঙেছে, তার হিসাব রাখা সম্ভব নয়।

মা রান্নাঘর থেকে বলেন—“আপার ছেলে তো গোল্ডেন A+ পেয়েছে, তুই কেন পারলি না?”
বাবা ডাইনিং টেবিলে বলেন—“আমার বন্ধুর ছেলে এবার মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।”
চাচা মেজবানিতে বলেন—“আমার ভাইয়ের মেয়ে আমেরিকায় গিয়েছে স্কলারশিপে। তোমার ছেলে কী করবে?”

প্রতিটি তুলনা একটি শিশুর আত্মবিশ্বাসের গায়ে একটি করে আঁচড়। দশ-পনেরো বছর ধরে এই আঁচড় জমতে জমতে যখন সেই আত্মবিশ্বাস রক্তাক্ত হয়ে পড়ে—তখন আমরা অভিযোগ করি, “ছেলেটার কোনো কনফিডেন্স নেই, কিচ্ছু পারে না।”

আপনার সন্তান অন্য কারো প্রতিযোগী নয়। তার একমাত্র প্রতিযোগী সে নিজে—গতকালের সে নিজে। প্রতিটি শিশু একটি স্বতন্ত্র মহাবিশ্ব। তাকে অন্য একটি মহাবিশ্বের সাথে তুলনা করা শুধু অজ্ঞতা নয়, নিষ্ঠুরতা।

২০১৮ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর কথা মনে আছে? বাবা-মাকে অপদস্থ হতে দেখে, পরীক্ষার চাপে ভেঙে পড়ে—এক চৌদ্দ বছরের শিশু আত্মহত্যা করেছিল। সেদিন গোটা ঢাকা শহর কেঁদেছিল। কিন্তু আমরা কি সত্যিই কিছু শিখেছি? ক'টা পরিবার তাদের সন্তানের পিএসসি/জেএসসি/এসএসসি/এইচএসসির রেজাল্ট নিয়ে অস্বাস্থ্যকর চাপ দেওয়া বন্ধ করেছে? ক'জন অভিভাবক স্কুলে শিক্ষকের সামনে নিজের সন্তানকে অপমান করা বন্ধ করেছেন?

অরিত্রীর মৃত্যুর পর প্রতি বছর HSC-এর রেজাল্টের দিন কেউ না কেউ আত্মহত্যা করে। সংবাদপত্রের এক কোণে ছোট একটা খবর হয়, তারপর আমরা ভুলে যাই। পরের বছর আবার নতুন একটি অরিত্রী জন্ম নেয়।

অভিভাবকদের কাছে কিছু সরাসরি প্রশ্ন

এই লেখার সবচেয়ে কঠিন অংশটি এখন আসছে। যে অভিভাবকেরা পড়ছেন, একটু সাহস করে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুন:

১. সন্তানকে ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চেয়েছিলেন—তার ভালোর জন্য, না নিজের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য?

সততার সাথে উত্তর দিন। আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে “আমার ছেলে DMC-তে পড়ে” বলার যে গর্ব, “আমার ছেলে BUET-এ পড়ে” বলার যে প্রতিপত্তি—সেটার লোভ কি একদমই ছিল না?

২. নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন কি সন্তানের ঘাড়ে চাপাচ্ছেন না?

যে বাবা একসময় ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে পারেননি—তিনি তাঁর সন্তানকে দিয়ে সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে চান। কিন্তু আপনার অসম্পূর্ণ জীবন আপনার সন্তানের একমাত্র জীবন। আপনার ব্যর্থতার বোঝা তাকে কেন বইতে হবে?

৩. সন্তান আপনার পছন্দের বিষয়ে পড়ে ব্যর্থ হলে, সেই ব্যর্থতার দায় কে নেয়?

এটাই সবচেয়ে অমানবিক অংশ। ছেলেটি ডাক্তারি পড়তে চায়নি, কিন্তু আপনি জোর করে ভর্তি করিয়েছেন। সে অ্যানাটমিতে ফেল করেছে, সাইকিয়াট্রিতে ডিপ্রেশন ধরা পড়েছে, MBBS-এর সাত বছরেও পাশ করতে পারছে না। এখন আপনি বলছেন, “ছেলেটা অযোগ্য, ছেলেটা পরিশ্রমী না।”

একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলি—সে যদি তার পছন্দের বিষয়ে পড়ত আর ব্যর্থ হত, সেই ব্যর্থতার দায় তার ছিল। কিন্তু সে আপনার পছন্দের বিষয়ে পড়ে ব্যর্থ হয়েছে—এই ব্যর্থতার দায় আপনার, একমাত্র আপনার।

পেশাগত জীবনে ব্যর্থতার আসল উৎস

আমরা প্রায়ই অভিযোগ করি—“বাংলাদেশের ডাক্তাররা রোগীর সাথে ভালো ব্যবহার করেন না”, “এদেশের ইঞ্জিনিয়াররা ক্রিয়েটিভ না”, “ব্যাংকাররা শুধু রোবট”।

কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন—এদের একটা বিরাট অংশ তো এই পেশায় আসতেই চায়নি। যাকে জোর করে ডাক্তার বানানো হয়েছে, সে কীভাবে রোগীকে ভালোবাসবে? যাকে জোর করে ইঞ্জিনিয়ার বানানো হয়েছে, তার মাথা থেকে সৃজনশীলতা আশা করা পাগলামি। যাকে জোর করে ব্যাংকার বানানো হয়েছে, সে নিজের ভেতরে যে মানুষটাকে দাফন করেছে তার গন্ধ আজীবন তাড়া করবে।

এই দেশের পেশাগত অদক্ষতার একটি প্রধান কারণ—লক্ষ লক্ষ মানুষ এমন পেশায় কাজ করছেন যে পেশায় তাঁদের কোনো আগ্রহ নেই, কোনো ভালোবাসা নেই, কোনো প্রতিভা নেই। এটা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তো বটেই, এটা জাতীয় অপচয়।

নতুন প্রজন্মের অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ

আজ যাঁরা নতুন বাবা-মা হয়েছেন—যাঁদের সন্তান এখনো প্লে-গ্রুপে বা প্রাইমারিতে—তাঁদের কাছে একটি বিনীত অনুরোধ:

আপনার সন্তানকে শুনুন। তিন বছর বয়সে সে যখন রংপেন্সিল হাতে ছবি আঁকে, পাঁচ বছরে যখন গান গায়, সাত বছরে যখন গল্প বানায়, দশ বছরে যখন রোবট বানানোর স্বপ্ন দেখে—এই সংকেতগুলো লক্ষ্য করুন। এগুলো সাময়িক মজা নয়, এগুলো তার ভেতরের মহাবিশ্বের সংকেত।

তুলনা বন্ধ করুন। আপনার সন্তান অমুকের ছেলে নয়, তমুকের মেয়ে নয়। সে স্বতন্ত্র। তার যাত্রা স্বতন্ত্র, গতি স্বতন্ত্র, লক্ষ্য স্বতন্ত্র।

আপনার অপূর্ণ স্বপ্ন তার ঘাড়ে চাপাবেন না। আপনি যা হতে পারেননি, সেটা আপনার দায়। আপনার সন্তানের জীবন আপনার পুনর্জন্ম নয়।

সমাজের ভয়কে জয় করুন। “লোকে কী বলবে”—এই প্রশ্নটি আমাদের জাতিকে শতাব্দী ধরে অসুস্থ করে রেখেছে। লোকে কিছুই মনে রাখবে না। আপনার সন্তান মনে রাখবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে দিন। যে শিশু স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে, সে বড় হয়ে নিজের পথ খুঁজে নেবে। আর সেই পথে—আপনাকে কোনো ধাক্কা দিতে হবে না—সে নিজেই দৌড়াবে।

শেষ কথা

আমাদের দেশে প্রতিভার অভাব নেই। অভাব হল প্রতিভাকে বাঁচতে দেওয়ার সাহসের। আমাদের দেশে স্বপ্নের অভাব নেই। অভাব হল সন্তানের স্বপ্নকে সম্মান করার সংস্কৃতির।

আজ যদি আমরা একটিও শিশুকে তার নিজের পথে চলতে দিই—একটিও কিশোরকে “ডাক্তার হতে হবে”-র জায়গায় “যা হতে চাও, তা হও” বলতে পারি—একটিও মেয়েকে “ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে”-র বদলে “তোমার স্বপ্নটা কী, মা?” জিজ্ঞেস করতে পারি—

তাহলে হয়তো আগামী প্রজন্মে আর কোনো ডাক্তারকে রাত তিনটায় ডিউটি রুমে একা একা কবিতা লিখে আসতে হবে না। সে দিনের আলোয়, সবার সামনে, গর্ব করে কবি হবে। এবং সেই কবিতা পৃথিবী মনে রাখবে।

আমাদের সন্তানদের আমরা যে ডিগ্রিগুলো জোর করে চাপিয়ে দিয়েছি, সেগুলো ফ্রেমে বাঁধানো দেয়ালে ঝুলছে। কিন্তু সেই ফ্রেমের পেছনে—দেয়ালের ওপর—অদৃশ্য কালিতে লেখা আছে অসংখ্য মৃত স্বপ্নের নাম।

আমরা কি অন্তত আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই দেয়ালটা পরিষ্কার রাখতে পারি না?

আপনার গল্পটি শেয়ার করুন

আপনি কি এমন কাউকে চেনেন—অথবা নিজেই—যিনি পরিবারের চাপে নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারেননি? আপনার একটি সাহসী মন্তব্য আরেকটি পরিবারকে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।

Contact Me
Raihan Khan

Raihan Khan

AI & Systems Architect, Entrepreneur, e-GP Specialist & Writer

A versatile AI & systems architect and entrepreneur with 10+ years of experience across e-Government systems, software architecture, and project management. Founder of ABCL TECH, Chakri Bangla, Visa Bangla, and e-GP Bangla — alongside writing on technology, society, and personal reflection.